আওয়ামী ফ্যাসিবাদের কুক্ষিগত ক্ষমতা ধরে রাখার আরেকটি তামাশার নির্বাচন
আন্দোলন প্রতিবেদন
বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
বিএনপিসহ অধিকাংশ বুর্জোয়া বিরোধী দল, গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল সংগঠন এবং জনগণ আরেকটি ভুয়া নির্বাচনকে বিরোধিতা করে লাগাতার আন্দোলন-সংগ্রাম করছেন। কিন্ত জনমতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ৭ জানুয়ারি’২৪ নির্বাচনের তারিখ দিয়ে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এই সরকার বিগত ১৫ বছর ক্ষমতা কুক্ষিগত রেখে রাষ্ট্রযন্ত্রের সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ ও ফ্যাসিবাদে সজ্জিত করেছে। তারা জনগণকে দমন করে গণবিরোধী কর্মসূচি বাস্তবায়নসহ বুর্জোয়া নির্বাচনী ব্যবস্থাও ধ্বংস করেছে। তাদের সব অপকর্মে রাষ্টযন্ত্র তথা পুলিশ-প্রশাসনকে যথেচ্ছ ব্যবহার করছে। এবারও ক্ষমতা দখলে রাখতে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার সহ এমন কোনো হীনকর্ম নেই যা তারা করছে না। নির্বাচনী ঢাক-ঢোল বাজিয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন, ভিত্তি প্রস্তর ও রাতারাতি বিভিন্ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের বগলদাবার সুযোগ করে দিয়ে জনগণকে উন্নয়নের ধাঁধায় আইওয়াশ করছে। ‘উন্নয়নের’ জয়গান গেয়ে জনগণের কাছে ভোট চেয়ে প্রতিশ্রুতিও আদায় করছে।
একইসাথে শ্রমিক-কৃষকসহ ব্যাপক জনগণের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন-সংগ্রাম দমন-নিপীড়নের পাশাপাশি নির্বাচনের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি’র উপর মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার-হয়রানি চলছিলো। প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রীরা প্রতিটি জনসভায়/দলীয় সভায় বিএনপি’র অতীতের নানা অপকর্মের ফিরিস্তি দিয়ে নিজেদের বহুগুণ অপকর্ম আড়াল করছে।
সবশেষে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোকে নির্বাচনের বাইরে রাখার নীল-নকসার অংশ হিসেবে ২৮ অক্টোবর নয়া পল্টনে জনসভা শুরুর আগেই পরিকল্পিতভাবে শ্বেত-সন্ত্রাস চালিয়ে পণ্ড করে দেয়। তাৎক্ষণিক বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল আখ্যা দিয়ে তাদের শীর্ষ নেতৃত্বসহ হাজার হাজার নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করে জেল-হাজতে পাঠিয়ে আন্দোলনের মাঠ ছাড়া করেছে।
এরপর তারা গ্রেপ্তারকৃত নেতাদের নির্বাচনে আনার বা দলের মধ্যে ভাঙ্গন ধরাতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তাতে তারা কিছুটা সফলও হয়েছে। এ ছাড়া তারা বরাবরের মত জাতীয় পার্টিসহ ছোট ছোট দলগুলোকে বা বিএনপি’র অবসরপ্রাপ্ত নেতাদের ক্ষমতার খুদ-কুঁড়োর লোভ দেখিয়ে কিংস পার্টিতে যুক্ত করে নির্বাচনমুখী করছে। যাতে তারা নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক দেখাতে পারে।
আরেকটি কূট-কৌশল হলো আওয়ামী নমিনেশন বঞ্চিত নেতাদের ডামী প্রার্থী করা। এতে ভোটার উপস্থিতি ও নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দেখানো হলো এবং বঞ্চিতদের খুশিও রাখা হলো। এছাড়া হাসিনা-আওয়ামী সরকার এবার ১৪ দলীয় জোটের শরিক বামপন্থি লেবাসের চীনাপন্থিদের সাথে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় পর্যন্ত আসন ভাগাভাগি করেনি ভারত ও মার্কিনকে সন্তুষ্ট করার জন্য। ভারতের আশীর্বাদে এবং চীন-রাশিয়ার সমর্থনে ফ্যাসিবাদী সরকার এখনও ভুয়া নির্বাচনের পথেই এগিয়ে চলছে।
এই নির্বাচন ঘিরে সকল সাম্রাজ্যবাদ ও ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের নগ্ন হস্তক্ষেপ চলছে। আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী ও আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব এই নির্বাচনে গুরুতর প্রভাব ফেলছে। গণনিপীড়ক-গণবিচ্ছিন্ন ভারতের দালাল হাসিনা-আওয়ামী সরকারের ক্ষমতায় থাকা না থাকা নির্ভর করছে বিশেষত ভারত, এবং সাধারণভাবে সাম্রাজ্যবাদীদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার উপর। অনুরূপ বুর্জোয়া বিরোধী দলগুলোর ক্ষমতায় যাওয়া না যাওয়াও নির্ভর করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইচ্ছার উপর। কারণ বুর্জোয়া বিরোধী দলের কিছু বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক দাবি থাকলেও শ্রমিক-কৃষকসহ ব্যাপক জনগণের স্বার্থের মৌলিক কোনো কর্মসূচি তাদের নেই। ফলে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিরোধী বিরাট জনমত গড়ে উঠলেও তারা ব্যাপক শ্রমিক-কৃষক-দরিদ্র জনগণকে সরকার পতনের আন্দোলনে নামাতে সক্ষম নয়।
বিরোধীদের অবরোধ-আন্দোলন ও সরকারের দমন-নির্যাতন
২৮ অক্টোবর বিএনপি’র মহাসমাবেশকে পণ্ড করার নীল-নকসার আলামত পূর্বেই দেখা গিয়েছিল। মহাসমাবেশ পণ্ড করতে সমাবেশের আগেই বিএনপি’র দুই হাজারেরও বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করে। সভা শুরুর আগেই বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের উপর হামলা করে। প্রধান বিচারপতির বাড়ি, পুলিশের উপর হামলা– এগুলো কারা করেছে বলা কঠিন। তবে যেকোনো প্রকৃত গণ-অভ্যুত্থানে এরকম ইতিহাস এদেশে ও অন্যত্র প্রচুর রয়েছে। ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান ও ’৯০-এ এরশাদ পতন কালেও এসব ঘটেছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যাপক গণবিক্ষোভ থাকলেও প্রকৃত গণ-অভ্যুত্থান গড়ে না ওঠায় এসব তৎপরতার ইস্যুতে বিরোধী আন্দোলন দমনের একটা সরকারি কৌশলও কাজ করছে মনে করলে অন্যায় হবে না। একদিকে হরতাল বা অবরোধ সফলে বুর্জোয়া বিরোধী আন্দোলনে বাস-পোড়ানো ছাড়া যেমন উপায় নেই। তেমনি এসব ইস্যু নিজেরাই সৃষ্টি করে বিরোধীদেরকে দমন করার কৌশলও সরকারি আওয়ামী লীগ ও রাষ্ট্রযন্ত্র গ্রহণ করতে পারে। এই সুযোগে বিরোধীদেরকে আগুন সন্ত্রাসী আখ্যায়িত করে বিএনপিকে নেতৃত্বশূন্য করতে গ্রেপ্তারের মচ্ছব চলছে। গ্রেপ্তার-মামলা-রিমাণ্ড-অর্থ আদায় এবং কারাদণ্ড দিয়ে বিরোধীদেরকে কোণঠাসা করার কর্মসূচি জোরালোভাবে চলছে।
তারা ’৭১-এর পাক-দালাল শান্তিকমিটির মতো করে শান্তি মিছিল করছে। ’৭১-এর রাজাকারদের মতো করে পুলিশ নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের বাড়িঘর চিনিয়ে দিচ্ছে, ধরে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিচ্ছে, গ্রেফতারকৃতদের থেকে টাকা আদায় করছে, তাদের বহু বাড়ি-ঘর লুটপাটও করছে।
প্রধানমন্ত্রীর “আইনের শাসন”
“অগ্নিসন্ত্রাস যারা করে, তাদের ধরে যে হাতে আগুন দেয়, ওই হাত পুড়িয়ে দিতে হবে”–৩ নভেম্বর’২৩, জেল হত্যা দিবসে আলোচনা সভায়।
“আগুন দিয়ে যারা পোড়াবে ... ... দরকার হলে তাদের ধরে ওই আগুনের মধ্যে ফেলতে হবে। যে হাত দিয়ে আগুন দেবে, সেই হাত আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিতে হবে।”–৪ নভেম্বর’২৩, মেট্রোরেল উদ্বোধনী আরামবাগের জনসভায়।
নতজানু ইলেকশন কমিশন
অন্যান্য সব নির্বাচনকে বাদ রাখলেও গাইবান্ধার উপনির্বাচনে স্থুল কারচুপির দায়ে যাদেরকে বিচার করার জন্য নির্বাচন কমিশন সুপারিশ করেছিল সেগুলো সরকার বাস্তবায়ন করেনি। কিন্তু ইসি এর কোনো প্রতিবাদ পর্যন্ত করেনি। বরং কারচুপি-সন্ত্রাস-ভোটডাকাতির জন্য নির্বাচন বাতিলে ইসির ক্ষমতা খর্ব করতে সরকার আইন সংশোধন করেছে। ইসি তার প্রতিবাদ তো করেই নি, বরং নিজ ক্ষমতাহ্রাসে তারা বেশ খুশিই হয়েছে!
সিইসি একবার বলেছে নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ নেই। আবার বলেছে ‘নির্বাচন নিয়ে পুরো দেশ মাতোয়ারা হয়ে আছে.......’। তারা বলেছে ১% ভোট পড়লেও নির্বাচন হবে– সংবিধানের ধারাবাহিকতা, বাধ্যবাধকতা! কী মহান সে সংবিধান যাতে ৯৯% জনগণ ভোট না দিলেও সেটা বৈধ! দেখা যাচ্ছে ফ্যাসিবাদী অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে পদত্যাগ করার সাহসও তাদের নেই। বাস্তবে তারা সেটা চায়ই না। কারণ, তারা তো ক্ষমতাসীন ফ্যাসিবাদেরই অংশ।
জাতীয় নির্বাচনে প্রভুদেশগুলোর নগ্ন হস্তক্ষেপ
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে শাসকশ্রেণির মুরব্বিদের দৌড়-ঝাঁপের অন্ত নেই। নির্বাচন কেন্দ্রীক সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের দৌড়াদৌড়ি এবারই নতুন নয়। ’৭১-এ বাংলাদেশের জন্মই হয়েছিল রুশ-মার্কিন আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্বের জেরে ভারতের সরাসরি হস্তক্ষেপ তথা যুদ্ধের মাধ্যমে। এর পর থেকে শাসকশ্রেণির ক্ষমতার কামড়াকামড়ির ফলস্বরূপ প্রতিটি নির্বাচনেই সাম্রাজ্যাবদ-সম্প্রসারণবাদের নগ্ন হস্তক্ষেপ চলছে।
বর্তমানে রুশ-চীন সাম্রাজ্যবাদের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের দ্বন্দ্ব তীব্র হয়ে উঠেছে। বিগত ১৫ বছর যাবৎ হাসিনা-আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার মার্কিনের সাথে দরকষাকষিতে চীন-রাশিয়ার উপরও অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশ নিয়ে সাম্রাজ্যবাদীদের মধ্যে টানাটানি চলছে। আওয়ামী সরকার এতদিন কারো সাথে শত্রুতা নয়, সবার সাথে বন্ধুত্ব– এই ছবক দিয়ে দুকুল রক্ষা করে চলছিল। কিন্তু এভাবে আর চলছে না।
হাসিনা-আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারকে ক্ষমতায় রাখতে নির্লজ্জ সমর্থন দিয়ে চলেছে সাম্রাজ্যবাদী চীন-রাশিয়া এবং সম্প্রসারণবাদী ভারত। তারা আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারকে একটি ‘গণতান্ত্রিক’ সরকার বলে সাফাই গাইছে! এতে ভর করে হাসিনা-আওয়ামী সরকার ভুয়া নির্বাচনে কোমর বেঁধে নেমেছে।
অন্যদিকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীরা ‘অবাধ’, ‘সুষ্ঠু’, ‘শান্তিপূর্ণ’, এবং “অংশগ্রহণমূলক” নির্বাচনের নামে হাসিনা-আওয়ামী সরকারের উপর চাপ বজায় রেখেছে। এর মধ্য দিয়ে তারা বিএনপিকে আন্দোলনে মদদ দিচ্ছে। এবং তাদের জন্য অধিকতর সুবিধাজনক বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে চাচ্ছে। এজন্য তারা মানবাধিকারের নামে পুলিশ-র্যাব কর্মকর্তাদের উপর স্যাংশন, সুষ্ঠু নির্বাচনে বাধাদানকারীদের উপর ভিসা নীতি প্রয়োগ এবং শ্রমিক অধিকারের নামে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার হুমকিতে রেখেছে হাসিনা সরকারকে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীদের এসবের সাথে মানবাধিকার, গণতন্ত্রের কোনো সম্পর্ক নেই।
হাসিনা-আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে হম্বি-তম্বি করলেও “তলে তলে” আপসের চেষ্টাও করছে। তার নমুনা মার্কিনের প্রেসিডেন্ট জো-বাইডেনের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সেলফি তোলা ও সেতুমন্ত্রীর তা ফলাও প্রচার। এবং বলা যে পিটার হাসের মুরুব্বিদের সাথে আপস হয়ে গেছে– ইত্যাদি।
এমন পরিস্থিতিতে মার্কিনের ইচ্ছার বাইরে ভুয়া নির্বাচনের পথে সরকার আগালে তৃতীয় শক্তি সামনে আসার সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে দেয়া যায় না, যার কথা খোদ প্রধানমন্ত্রীই বহুবার বলেছে। এমনকি বুর্জোয়া বুদ্ধিজীবী বিশ্লেষকদের অনেকেই বলছে নির্বাচন হলেও হাসিনা-আওয়ামী সরকার ক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হবে না।
“বাংলাদেশের ক্ষমতায় থাকার জন্য দিল্লীর সমর্থনই যথেষ্ট। আমেরিকারও দিল্লিকে দরকার, দিল্লি আছে, আমরাও আছি”।–সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ।
‘আমি ভারতে গিয়ে বলেছি যে শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে হবে। শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখার জন্য যা যা করার, সে জন্য ভারতবর্ষ সরকারকে আমি সেই অনুরোধ করেছি’।–পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন।
“আমরা ভারতকে এটাই বলেছি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা উভয় রাষ্ট্রের জন্য জরুরি। হাসিনা সরকার এব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে বাংলাদেশের মাটিকে ভারত বিরোধী কার্যকলাপে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।”–কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক।
“একটি বন্ধু এবং সঙ্গী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সম্মান জানাই আমরা”।–১০ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রকে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব ভিনয় কোয়াত্রা।
“সংবিধান ও আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের নির্বাচন চায় চীন।”–চীনের রাষ্ট্রদূত, ইয়াও ওয়ে।
“নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র, যা ভিয়েনা কনভেনশনের বিরোধী”–রাশিয়া।
“আমাদের কোনোই সন্দেই নাই যে বিদেশি ‘শুভাকাঙ্ক্ষীদের’ সহায়তা ছাড়াই জাতীয় সংবিধানের বিধানমত ৭ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখের সংসদ নির্বাচন স্বাধীনভাবে আয়োজনের সক্ষমতা বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের আছে”–রাশিয়া
জনগণ কী করবেন?
এমন পরিস্থিতিতে শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্তসহ ব্যাপক জনগণের করণীয় হচ্ছে– হাসিনা-আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বৈধতা দানকারী এই পাতানো নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করা। সর্বক্ষেত্রে ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন কায়েম, দেশ ও জনগণের সম্পদের নগ্ন লুটপাট, বিদেশি সাম্রাজ্যবাদীদের বিশেষত ভারতের দালালি এসব বাদেও তারা জনগণের ভোট দেয়ার গণতান্ত্রিক অধিকারটি পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছে।
তাই আওয়ামী ফ্যাসিবাদের এ প্রহসনমূলক প্রতারণার ভোটডাকাতির নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করতে হবে। এবং পাশাপাশি ফ্যাসিবাদ উচ্ছেদ করে মার্কিন, রাশিয়া, চীন, ইইউ সহ সকল সাম্রাজ্যবাদ ও ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের হস্তক্ষেপ মুক্ত, শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্ত সহ ব্যাপক জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী অস্থায়ী গণসরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন বেগবান করতে হবে।
যে গণ-সরকার ফ্যাসিবাদকে ন্যায্যতা দেয়ার চলমান সংবিধানকে বাতিল করা সহ রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানে ও সমাজের সকল ক্ষমতা-কেন্দ্রে গেড়ে বসা ফ্যাসিবাদের মূলোৎপাটন করবে। একটি অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করবে। নতুন সংবিধান সভার নির্বাচনের আয়োজন করবে। এভাবে জনগণের সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সংবিধান, সরকার ও রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এগিয়ে নেবে।
–০১/১২/’২৩
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আওয়ামী ফ্যাসিবাদের কুক্ষিগত ক্ষমতা ধরে রাখার আরেকটি তামাশার নির্বাচন
বিএনপিসহ অধিকাংশ বুর্জোয়া বিরোধী দল, গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল সংগঠন এবং জনগণ আরেকটি ভুয়া নির্বাচনকে বিরোধিতা করে লাগাতার আন্দোলন-সংগ্রাম করছেন। কিন্ত জনমতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ৭ জানুয়ারি’২৪ নির্বাচনের তারিখ দিয়ে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এই সরকার বিগত ১৫ বছর ক্ষমতা কুক্ষিগত রেখে রাষ্ট্রযন্ত্রের সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ ও ফ্যাসিবাদে সজ্জিত করেছে। তারা জনগণকে দমন করে গণবিরোধী কর্মসূচি বাস্তবায়নসহ বুর্জোয়া নির্বাচনী ব্যবস্থাও ধ্বংস করেছে। তাদের সব অপকর্মে রাষ্টযন্ত্র তথা পুলিশ-প্রশাসনকে যথেচ্ছ ব্যবহার করছে। এবারও ক্ষমতা দখলে রাখতে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার সহ এমন কোনো হীনকর্ম নেই যা তারা করছে না। নির্বাচনী ঢাক-ঢোল বাজিয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন, ভিত্তি প্রস্তর ও রাতারাতি বিভিন্ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের বগলদাবার সুযোগ করে দিয়ে জনগণকে উন্নয়নের ধাঁধায় আইওয়াশ করছে। ‘উন্নয়নের’ জয়গান গেয়ে জনগণের কাছে ভোট চেয়ে প্রতিশ্রুতিও আদায় করছে।
একইসাথে শ্রমিক-কৃষকসহ ব্যাপক জনগণের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন-সংগ্রাম দমন-নিপীড়নের পাশাপাশি নির্বাচনের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি’র উপর মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার-হয়রানি চলছিলো। প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রীরা প্রতিটি জনসভায়/দলীয় সভায় বিএনপি’র অতীতের নানা অপকর্মের ফিরিস্তি দিয়ে নিজেদের বহুগুণ অপকর্ম আড়াল করছে।
সবশেষে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোকে নির্বাচনের বাইরে রাখার নীল-নকসার অংশ হিসেবে ২৮ অক্টোবর নয়া পল্টনে জনসভা শুরুর আগেই পরিকল্পিতভাবে শ্বেত-সন্ত্রাস চালিয়ে পণ্ড করে দেয়। তাৎক্ষণিক বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল আখ্যা দিয়ে তাদের শীর্ষ নেতৃত্বসহ হাজার হাজার নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করে জেল-হাজতে পাঠিয়ে আন্দোলনের মাঠ ছাড়া করেছে।
এরপর তারা গ্রেপ্তারকৃত নেতাদের নির্বাচনে আনার বা দলের মধ্যে ভাঙ্গন ধরাতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তাতে তারা কিছুটা সফলও হয়েছে। এ ছাড়া তারা বরাবরের মত জাতীয় পার্টিসহ ছোট ছোট দলগুলোকে বা বিএনপি’র অবসরপ্রাপ্ত নেতাদের ক্ষমতার খুদ-কুঁড়োর লোভ দেখিয়ে কিংস পার্টিতে যুক্ত করে নির্বাচনমুখী করছে। যাতে তারা নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক দেখাতে পারে।
আরেকটি কূট-কৌশল হলো আওয়ামী নমিনেশন বঞ্চিত নেতাদের ডামী প্রার্থী করা। এতে ভোটার উপস্থিতি ও নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দেখানো হলো এবং বঞ্চিতদের খুশিও রাখা হলো। এছাড়া হাসিনা-আওয়ামী সরকার এবার ১৪ দলীয় জোটের শরিক বামপন্থি লেবাসের চীনাপন্থিদের সাথে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় পর্যন্ত আসন ভাগাভাগি করেনি ভারত ও মার্কিনকে সন্তুষ্ট করার জন্য। ভারতের আশীর্বাদে এবং চীন-রাশিয়ার সমর্থনে ফ্যাসিবাদী সরকার এখনও ভুয়া নির্বাচনের পথেই এগিয়ে চলছে।
এই নির্বাচন ঘিরে সকল সাম্রাজ্যবাদ ও ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের নগ্ন হস্তক্ষেপ চলছে। আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী ও আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব এই নির্বাচনে গুরুতর প্রভাব ফেলছে। গণনিপীড়ক-গণবিচ্ছিন্ন ভারতের দালাল হাসিনা-আওয়ামী সরকারের ক্ষমতায় থাকা না থাকা নির্ভর করছে বিশেষত ভারত, এবং সাধারণভাবে সাম্রাজ্যবাদীদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার উপর। অনুরূপ বুর্জোয়া বিরোধী দলগুলোর ক্ষমতায় যাওয়া না যাওয়াও নির্ভর করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইচ্ছার উপর। কারণ বুর্জোয়া বিরোধী দলের কিছু বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক দাবি থাকলেও শ্রমিক-কৃষকসহ ব্যাপক জনগণের স্বার্থের মৌলিক কোনো কর্মসূচি তাদের নেই। ফলে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিরোধী বিরাট জনমত গড়ে উঠলেও তারা ব্যাপক শ্রমিক-কৃষক-দরিদ্র জনগণকে সরকার পতনের আন্দোলনে নামাতে সক্ষম নয়।
বিরোধীদের অবরোধ-আন্দোলন ও সরকারের দমন-নির্যাতন
২৮ অক্টোবর বিএনপি’র মহাসমাবেশকে পণ্ড করার নীল-নকসার আলামত পূর্বেই দেখা গিয়েছিল। মহাসমাবেশ পণ্ড করতে সমাবেশের আগেই বিএনপি’র দুই হাজারেরও বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করে। সভা শুরুর আগেই বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের উপর হামলা করে। প্রধান বিচারপতির বাড়ি, পুলিশের উপর হামলা– এগুলো কারা করেছে বলা কঠিন। তবে যেকোনো প্রকৃত গণ-অভ্যুত্থানে এরকম ইতিহাস এদেশে ও অন্যত্র প্রচুর রয়েছে। ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান ও ’৯০-এ এরশাদ পতন কালেও এসব ঘটেছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যাপক গণবিক্ষোভ থাকলেও প্রকৃত গণ-অভ্যুত্থান গড়ে না ওঠায় এসব তৎপরতার ইস্যুতে বিরোধী আন্দোলন দমনের একটা সরকারি কৌশলও কাজ করছে মনে করলে অন্যায় হবে না। একদিকে হরতাল বা অবরোধ সফলে বুর্জোয়া বিরোধী আন্দোলনে বাস-পোড়ানো ছাড়া যেমন উপায় নেই। তেমনি এসব ইস্যু নিজেরাই সৃষ্টি করে বিরোধীদেরকে দমন করার কৌশলও সরকারি আওয়ামী লীগ ও রাষ্ট্রযন্ত্র গ্রহণ করতে পারে। এই সুযোগে বিরোধীদেরকে আগুন সন্ত্রাসী আখ্যায়িত করে বিএনপিকে নেতৃত্বশূন্য করতে গ্রেপ্তারের মচ্ছব চলছে। গ্রেপ্তার-মামলা-রিমাণ্ড-অর্থ আদায় এবং কারাদণ্ড দিয়ে বিরোধীদেরকে কোণঠাসা করার কর্মসূচি জোরালোভাবে চলছে।
তারা ’৭১-এর পাক-দালাল শান্তিকমিটির মতো করে শান্তি মিছিল করছে। ’৭১-এর রাজাকারদের মতো করে পুলিশ নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের বাড়িঘর চিনিয়ে দিচ্ছে, ধরে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিচ্ছে, গ্রেফতারকৃতদের থেকে টাকা আদায় করছে, তাদের বহু বাড়ি-ঘর লুটপাটও করছে।
প্রধানমন্ত্রীর “আইনের শাসন”
“অগ্নিসন্ত্রাস যারা করে, তাদের ধরে যে হাতে আগুন দেয়, ওই হাত পুড়িয়ে দিতে হবে”–৩ নভেম্বর’২৩, জেল হত্যা দিবসে আলোচনা সভায়।
“আগুন দিয়ে যারা পোড়াবে ... ... দরকার হলে তাদের ধরে ওই আগুনের মধ্যে ফেলতে হবে। যে হাত দিয়ে আগুন দেবে, সেই হাত আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিতে হবে।”–৪ নভেম্বর’২৩, মেট্রোরেল উদ্বোধনী আরামবাগের জনসভায়।
নতজানু ইলেকশন কমিশন
অন্যান্য সব নির্বাচনকে বাদ রাখলেও গাইবান্ধার উপনির্বাচনে স্থুল কারচুপির দায়ে যাদেরকে বিচার করার জন্য নির্বাচন কমিশন সুপারিশ করেছিল সেগুলো সরকার বাস্তবায়ন করেনি। কিন্তু ইসি এর কোনো প্রতিবাদ পর্যন্ত করেনি। বরং কারচুপি-সন্ত্রাস-ভোটডাকাতির জন্য নির্বাচন বাতিলে ইসির ক্ষমতা খর্ব করতে সরকার আইন সংশোধন করেছে। ইসি তার প্রতিবাদ তো করেই নি, বরং নিজ ক্ষমতাহ্রাসে তারা বেশ খুশিই হয়েছে!
সিইসি একবার বলেছে নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ নেই। আবার বলেছে ‘নির্বাচন নিয়ে পুরো দেশ মাতোয়ারা হয়ে আছে.......’। তারা বলেছে ১% ভোট পড়লেও নির্বাচন হবে– সংবিধানের ধারাবাহিকতা, বাধ্যবাধকতা! কী মহান সে সংবিধান যাতে ৯৯% জনগণ ভোট না দিলেও সেটা বৈধ! দেখা যাচ্ছে ফ্যাসিবাদী অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে পদত্যাগ করার সাহসও তাদের নেই। বাস্তবে তারা সেটা চায়ই না। কারণ, তারা তো ক্ষমতাসীন ফ্যাসিবাদেরই অংশ।
জাতীয় নির্বাচনে প্রভুদেশগুলোর নগ্ন হস্তক্ষেপ
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে শাসকশ্রেণির মুরব্বিদের দৌড়-ঝাঁপের অন্ত নেই। নির্বাচন কেন্দ্রীক সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের দৌড়াদৌড়ি এবারই নতুন নয়। ’৭১-এ বাংলাদেশের জন্মই হয়েছিল রুশ-মার্কিন আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্বের জেরে ভারতের সরাসরি হস্তক্ষেপ তথা যুদ্ধের মাধ্যমে। এর পর থেকে শাসকশ্রেণির ক্ষমতার কামড়াকামড়ির ফলস্বরূপ প্রতিটি নির্বাচনেই সাম্রাজ্যাবদ-সম্প্রসারণবাদের নগ্ন হস্তক্ষেপ চলছে।
বর্তমানে রুশ-চীন সাম্রাজ্যবাদের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের দ্বন্দ্ব তীব্র হয়ে উঠেছে। বিগত ১৫ বছর যাবৎ হাসিনা-আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার মার্কিনের সাথে দরকষাকষিতে চীন-রাশিয়ার উপরও অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশ নিয়ে সাম্রাজ্যবাদীদের মধ্যে টানাটানি চলছে। আওয়ামী সরকার এতদিন কারো সাথে শত্রুতা নয়, সবার সাথে বন্ধুত্ব– এই ছবক দিয়ে দুকুল রক্ষা করে চলছিল। কিন্তু এভাবে আর চলছে না।
হাসিনা-আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারকে ক্ষমতায় রাখতে নির্লজ্জ সমর্থন দিয়ে চলেছে সাম্রাজ্যবাদী চীন-রাশিয়া এবং সম্প্রসারণবাদী ভারত। তারা আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারকে একটি ‘গণতান্ত্রিক’ সরকার বলে সাফাই গাইছে! এতে ভর করে হাসিনা-আওয়ামী সরকার ভুয়া নির্বাচনে কোমর বেঁধে নেমেছে।
অন্যদিকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীরা ‘অবাধ’, ‘সুষ্ঠু’, ‘শান্তিপূর্ণ’, এবং “অংশগ্রহণমূলক” নির্বাচনের নামে হাসিনা-আওয়ামী সরকারের উপর চাপ বজায় রেখেছে। এর মধ্য দিয়ে তারা বিএনপিকে আন্দোলনে মদদ দিচ্ছে। এবং তাদের জন্য অধিকতর সুবিধাজনক বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে চাচ্ছে। এজন্য তারা মানবাধিকারের নামে পুলিশ-র্যাব কর্মকর্তাদের উপর স্যাংশন, সুষ্ঠু নির্বাচনে বাধাদানকারীদের উপর ভিসা নীতি প্রয়োগ এবং শ্রমিক অধিকারের নামে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার হুমকিতে রেখেছে হাসিনা সরকারকে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীদের এসবের সাথে মানবাধিকার, গণতন্ত্রের কোনো সম্পর্ক নেই।
হাসিনা-আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে হম্বি-তম্বি করলেও “তলে তলে” আপসের চেষ্টাও করছে। তার নমুনা মার্কিনের প্রেসিডেন্ট জো-বাইডেনের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সেলফি তোলা ও সেতুমন্ত্রীর তা ফলাও প্রচার। এবং বলা যে পিটার হাসের মুরুব্বিদের সাথে আপস হয়ে গেছে– ইত্যাদি।
এমন পরিস্থিতিতে মার্কিনের ইচ্ছার বাইরে ভুয়া নির্বাচনের পথে সরকার আগালে তৃতীয় শক্তি সামনে আসার সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে দেয়া যায় না, যার কথা খোদ প্রধানমন্ত্রীই বহুবার বলেছে। এমনকি বুর্জোয়া বুদ্ধিজীবী বিশ্লেষকদের অনেকেই বলছে নির্বাচন হলেও হাসিনা-আওয়ামী সরকার ক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হবে না।
“বাংলাদেশের ক্ষমতায় থাকার জন্য দিল্লীর সমর্থনই যথেষ্ট। আমেরিকারও দিল্লিকে দরকার, দিল্লি আছে, আমরাও আছি”।–সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ।
‘আমি ভারতে গিয়ে বলেছি যে শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে হবে। শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখার জন্য যা যা করার, সে জন্য ভারতবর্ষ সরকারকে আমি সেই অনুরোধ করেছি’।–পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন।
“আমরা ভারতকে এটাই বলেছি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা উভয় রাষ্ট্রের জন্য জরুরি। হাসিনা সরকার এব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে বাংলাদেশের মাটিকে ভারত বিরোধী কার্যকলাপে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।”–কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক।
“একটি বন্ধু এবং সঙ্গী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সম্মান জানাই আমরা”।–১০ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রকে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব ভিনয় কোয়াত্রা।
“সংবিধান ও আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের নির্বাচন চায় চীন।”–চীনের রাষ্ট্রদূত, ইয়াও ওয়ে।
“নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র, যা ভিয়েনা কনভেনশনের বিরোধী”–রাশিয়া।
“আমাদের কোনোই সন্দেই নাই যে বিদেশি ‘শুভাকাঙ্ক্ষীদের’ সহায়তা ছাড়াই জাতীয় সংবিধানের বিধানমত ৭ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখের সংসদ নির্বাচন স্বাধীনভাবে আয়োজনের সক্ষমতা বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের আছে”–রাশিয়া
জনগণ কী করবেন?
এমন পরিস্থিতিতে শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্তসহ ব্যাপক জনগণের করণীয় হচ্ছে– হাসিনা-আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বৈধতা দানকারী এই পাতানো নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করা। সর্বক্ষেত্রে ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন কায়েম, দেশ ও জনগণের সম্পদের নগ্ন লুটপাট, বিদেশি সাম্রাজ্যবাদীদের বিশেষত ভারতের দালালি এসব বাদেও তারা জনগণের ভোট দেয়ার গণতান্ত্রিক অধিকারটি পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছে।
তাই আওয়ামী ফ্যাসিবাদের এ প্রহসনমূলক প্রতারণার ভোটডাকাতির নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করতে হবে। এবং পাশাপাশি ফ্যাসিবাদ উচ্ছেদ করে মার্কিন, রাশিয়া, চীন, ইইউ সহ সকল সাম্রাজ্যবাদ ও ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের হস্তক্ষেপ মুক্ত, শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্ত সহ ব্যাপক জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী অস্থায়ী গণসরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন বেগবান করতে হবে।
যে গণ-সরকার ফ্যাসিবাদকে ন্যায্যতা দেয়ার চলমান সংবিধানকে বাতিল করা সহ রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানে ও সমাজের সকল ক্ষমতা-কেন্দ্রে গেড়ে বসা ফ্যাসিবাদের মূলোৎপাটন করবে। একটি অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করবে। নতুন সংবিধান সভার নির্বাচনের আয়োজন করবে। এভাবে জনগণের সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সংবিধান, সরকার ও রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এগিয়ে নেবে।
–০১/১২/’২৩
আরও খবর
- শনি
- রোব
- সোম
- মঙ্গল
- বুধ
- বৃহ
- শুক্র